ভারতে ৬ ফেব্রুয়ারি ‘মেটাভার্সে’ প্রথম বিয়ে
বিয়ে মানেই মাহা ধূম-ধাম। কিন্তু সেই উৎসবে বাগড়া সেধেছে মহামারি করোনা। তাই শেষতক মেটাভার্সেই নিজেদের বিয়ের বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করেছেন ভারতের তামিলনাড়ুর যুগল। দাওয়াত দেয়া হয়েছে দুই হাজার অতিথিকে।
স্ব-ঘোষিত “পটারহেডস” বা হ্যারি পটারের ভক্ত হিসাবে তামিলনাড়ুর এই জুটি হগওয়ার্টস থিমের পার্টি বেছে নিয়েছেন; যেখানে ফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপের মাধ্যমে হাজির হতে হবে আমন্ত্রিত অতিথিদের।
শুভলগ্ন ঠিক হয়েছে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম রবিবার। ওই দিন সূর্যাস্তের সময় চেন্নাই থেকে প্রায় পৌণে তিনশ’ কিলোমিটার দূরে বরের বাড়ি কৃষ্ণগিরিতে সাত পাঁকে বাধা পড়বেন দীনেশ শিবকুমার পদ্মাবতী এবং জনগনন্ধিনী রামস্বামী। দীনেশ পেশায় আইআইটি মাদ্রাজের প্রকল্প সহযোগী। আর জনগনন্ধিনী সফটওয়্যার ডেভেলপার। ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আত্মীয়দের সামনে অবশ্য শারীরিক উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হবে এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।
এরপর মেটাভার্সে কনের বাড়ী সিভলিঙ্গপুরে অনুষ্ঠিত হবে বিয়ের সংবর্ধনা। যেখানে অতিথিদের জন্য থাকছে পছন্দের অবতার ও পোশাক বেছে নেয়ার সুযোগ। ডিজিটাল রিসপসনের এই আয়োজনে দেড় লাখ ভারতীয় রুপি ব্যয় করা হয়েছে এরই মধ্যে। তৈরি করা হয়েছে বিয়ের অনুষ্ঠানের সিম্যুলেশন। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম এবং ডিভাইস থেকে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি অথবা অগমেন্টেড রিয়ালিটি গিয়ারের বদৌলতে এমনকি ব্লকচেইনে সোশ্যাল মিডিয়া ধারণাতেও যোগ দেয়া যাবে এই বিবাহত্তর সংবর্ধনায়। ধনী অতিথিরা নিজেদের জন্য মঞ্চের অনুকরণ করে নিজেদের জন্য আলাদা জায়গাও তৈরি করে নিতে পারবেন।
সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, পরপারে থেকেও অভ্যাগত অতিথিদের সন্তানের বিয়েতে আশীর্বাদ করতে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কনে রামাস্বামীর প্রয়াত বাবাও। এজন্য তার একটি ত্রিমাত্রিক অবতার তৈরি করেছেন দীনেশ। জানিয়েছেন, ব্লকচেইন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার সুবাদে গত এক বছর ধরে ইথেরিয়াম মাইনিং করার ফাঁকে মেটাভার্সে বিয়ের আয়োজনের বন্দোবস্ত করেন তিনি।
এর আগে গত ডিসেম্বরে মেটাভার্সে বিয়ে করে খবরে আসেন মার্কিন দম্পতি ট্র্যাসি এবং ডেভ গ্যাগনন। আর পদ্মাবতী-রামস্বামীর মেটাভার্স বিয়েটা ভারতে প্রথম।